• কনৌজ থেকে হর্ষবর্ধন এসেছিল কিছু আগে। বেলাভূমি ছুঁয়ে যাওয়া নোনতা ঢেউ এর ভিতর কুচি কুচি অনু ঢেউ।...

  • সারাদিন অদ্ভুত রহস্যের ব্যথায় পালিয়ে বেড়াই বহুদিন ধরে গোপনে গোপনে রক্ত আর স্বেদ...

  • মানচিত্র আঁকা পৃথিবীর বেলুন দেখেছি; উঠেছে, বসেছে, চিৎকার করেছে : পরিমাণগত!...

  • আলো আসছে চোখে আলো সুড়ঙ্গ ঘুম ভেঙে.....

  • একটা চায়ের কাপ বিস্কুটের কামড় মেগা সিরিয়াল...

  • তার ঈশ্বর দু-হাতে বৃষ্টি নামালে লঘু দিগন্তে শেষ হয়ে যেত প্রান্তর...

বৃহস্পতিবার, ১৭ মে, ২০১৮



বুকপকেটে কবিতা

কী করে স্পর্শ করি তাকে? কী করে হাতে হাত
রাখি বল? এই যোজন বিস্তৃত দূরত্ব
এই অন্ধকার আলোহীন সমুদ্র-প্রান্তর
তাকে কী করে অতিক্রম করি?
সমস্ত অনায়ত্ত আয়ত্তে এনে অকালবর্ষণে ভিজি?

ভেজা তো আমরণ ক্ষুধা, আশৈশব হাতের ফড়িং
ফরফর বর্ণমালা, আমার মায়ের সংসার গোছানো।
অনন্ত আলপথে স্মৃতির গুঁড়ো, কিছু চিহ্ন অবশিষ্ট
বুকপকেটে কবিতা রেখে তাকে তবু ছুঁতেও পারি না।

 

স্বপ্নে সমুদ্র

সমুদ্র লাফ দিয়ে ঘরে ঢুকে এল
অগাধ জলরাশি আর ভাসমান ফেনা
মাস্তুলভাঙা কোন জাহাজ
সুদূরের ঘাট ছুঁয়ে চলে এল আমার শোবার ঘরে।

ধবধবে সাদা পাল
সমুদ্রের নীল
, প্রবাল প্রাচীর, শঙ্খ সাদা
ফেনিল আবর্তে দেখি আমাদের ভাঙা সংসার।

পরদিন সকালে নিয়মমাফিক ঘুম ভেঙে গেলে
খটখটে বিছানায় শুয়ে আমি কোন সমুদ্রকে
বিতরাগে নীল হয়ে হেঁটে যেতে দেখিনি তখনও...



অলঙ্করণ-সঞ্জীব



শনিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৮


একটা অগোছালো সাদাকালো
ঝড় দরকার ;
আধুলি অনুভূতির, ভিক্ষা ধাতে সয় না...
ধাতে ধাতে মেলে না...
তৈরি মুখোশের ভেতরে চলছে, হাতাহাতি..

শুনেছি,মরণের ওপারেতে....
এক নিশুতি,সাগর আছে...
সেখানে রাশিরাশি ন্যাংটো শরীর,
জোড়ে জোড়ে ভাসে....
তারা তর্পণ.....আরতি করেনা...
একে অপর কে সমর্পণ করে ;
ওরা বিধাতার অনুগত ধর্মভয় করেনা...
পূবের আকাশ, গোপন রেখেছে সে খবর...

পড়ে যাওয়া বিকেল ভেঙে ভেঙে, আবারও অবয়ব তৈরি করে ;
জোড়াতালির সীমারেখাটা,
দিন কে দিন বেড়েই চলেছে....
একটা নেই মেঘ অলিখিত ঝড় দরকার ;
একটা নেই শরীর নীলচে অবকাশ দরকার
একটা নেই বর্ণমালা নেই শেষ তুমি দরকার....


অলঙ্করণ-সঞ্জীব







শুক্রবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৮


গল্পকার বিতান চক্রবর্তীর দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ চিহ্ন। এর বছর দুই আগে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ শান্তিরামের চা। প্রথমটির মতোই দ্বিতীয়  গল্পগ্রন্থটিরও প্রকাশক শাম্ভবী। সাতটি গল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে এই বইটি। 

এটুকু নেহাতই বাইরের তথ্য। আর গল্পগুলো? আলোচনাটা বরং একটু অন্যভাবে শুরু করতে পারি। কেন পড়ব এই বইটা? পাঠক তো জিঞাসা করতেই পারেন যে কী এমন আছে এই বইয়ের গল্পগুলোর মধ্যে যে চিহ্ন কিনে পড়তে হবে? মিষ্টি প্রেম আছে? সুড়সুড়ি দেওয়া যৌনতা আছে? মাল্টি-ন্যাশনাল ন্যারেটিভ আছে?  পরকীয়া, পরকীয়া নেই? না, নেই। এর কোনওটাই নেই। আরও অনেক কিছু নেই। সুখী দাম্পত্যের ছবি নেই, দুঃখ-দুঃখ ভাব নেই, দেশ-কাল-সমাজ-সংসার তোলপাড় করা কাহিনির বর্ণনা নেই।  এ-সবের কিচ্ছুটি নেই।

তবে? তাহলে কেন পড়ব চিহ্ন? কী আছে এখানে?

বলি তাহলেবিতানের গল্পের মধ্যে একটা নিরীক্ষণ আছে। আসলে একজন কথা সাহিত্যিক যখন কোনও চরিত্র বা ঘটনার নির্মাণ করেন তখন তাকে দেখার চোখটা থাকা খুব জরুরী। বিতানের তা আছে। বিতানের যে কোনও গল্প পড়লেই বোঝা যায় সেখানে কোনও কিছুই চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং পরিস্থিতির এবং আখ্যানের প্রয়োজন অনুযায়ী কাহিনি বিবৃত হয়েছে। গল্পকার যেন একজন দক্ষ শিল্পীর মতো যেখানে যতটুকু নিয়ন্ত্রণ রাখা দরকার, তাই-ই রেখেছেন। কাজেই বিতানের গল্প পড়লে কোথাও মনে হয় না যে গল্পকার আটঘাট বেঁধে কোনও গল্প বলার আয়োজন করেছেন। বরং মনে হয় এক সংবেদনশীল মেধাবী বন্ধু চায়ের দোকানে এক কাপ চা হাতে নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার ফাঁকে কথাগুলো বলে যাচ্ছেনযদি এমনটা না হত তাহলে কী করে লেখা সম্ভব হত তোমায় আমায় মিলের মতো গল্পের? যেখানে কথক এক নিরাপদ দূরত্ব থেকে ক্রমান্বয়ে দেখে চলেছে, একটি তরুণের অপেক্ষা, তার অস্বস্তি, তার হতাশা, এমনকী আড়ালে থাকা তার জুতোজোড়া পর্যন্ত কথকের দৃষ্টি এড়ায় না। তরুণীর আসা, তাদের পথ চলা, সম্পর্কের পাওয়া, না-পাওয়াএই সব কিছুর মধ্যে কথক নিজেও আখ্যানের কেন্দ্রভূমিতে ঢুকে পড়ে। বাসের মধ্যে সেই অপরিচিত লজেন্স বিক্রেতা দাদু যখন তার চামড়া গোটানো মুখ, দু-পাটি দাঁতশূন্য মাড়ি নিয়ে কথকের হাতে তুলে দেয় কাঁচামিঠে আম গন্ধের লজেন্স তখন এক লহমায় সে ফিরে যায় নিজের শৈশবে।  

বিতানের গল্প পাঠের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, শৈশবের প্রতি গল্পকারের এক অদম্য আকর্ষণ আছে। অত্যন্ত যত্ন-ভালোবাসা দিয়েই এই চরিত্রগুলির নির্মাণ তিনি করেছেন। কিন্তু একটা প্রশ্ন উঠতেই পারে, একজন সিরিয়াস সমকালীন গল্পকার হঠাৎ ছোটদের চরিত্র আনছেন কেন? আমাদের মনে হয়, এটা গল্পকারের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কার ছোটোদের দুনিয়া কপটতাহীন। তা অনেকক্ষেত্রে নির্মম হতে পারে কিন্তু হিপোক্রিট নয়। এই চান্সটাই বিতান নিয়েছেন অত্যন্ত দক্ষভাবেই। নইলে রোশনাই গল্পে যে প্রশ্নগুলো মৈনাক তার বাবাকে করেছে, সেটা সম্ভব হত না

বাবা, বড়োদিনে সবাই টুনি লাইট দিয়ে সাজায় কেন?

বা

আজ আকাশে তারা ওঠেনি, বাবা?

শিশুর জবানীতে এই বিশ্বাসযোগ্য প্রশ্নগুলিই পাঠককে এক বড় সত্যের দিকে নিয়ে যায়।

একজন বুদ্ধিদীপ্ত গল্পকার হিসেবে বিতান কখনওই হুড়মুড়িয়ে গল্প বলতে যান না। বরং সল্প পরিসরেই তিনি গল্পকে খুলতে সময় দেন। এই রোশনাই গল্পেই দেখি পরতে পরতে গল্প উন্মোচিত হয়েছে। যেখানে প্রেক্ষাপটে রয়েছে একটি গানের জলসাকে কেন্দ্র করে এক পরিচিত পাড়া, সেখানে জলসা পরিচালনার দায়িত্বে রাজনৈতিক আশ্রয়ে পালিত মাস্তানরা। অন্যদিকে এক অসুস্থ মানুষকে নিয়ে গলি রাস্তায় ঢুকে পড়া একটি অ্যাম্বুলেন্স। তাকে ঘিরে জনতার আক্রোশ। আর এরই মধ্যে এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার। বাবা আর ছেলের কথপোকথনের মধ্যে উন্মোচিত হয়েছে কাহিনি

এই শিশুদের নিয়েই বিতান একটি সম্পূর্ণ গল্প লিখেছেন। তিনটি কয়েন অনেক পাঠকই এই গল্পটিকে ফেলে আসা দিন, নিজেদের শৈশবের সঙ্গে রিলেট করবেন। কিন্তু আমার কাছে গল্পটি ভীষণ একটা কমপ্লেক্স ন্যরেটিভ বলে মনে হয়েছে। ঠিকই বিট্টু নামে এক সদ্য কিশোরের যাপন ও আকাঙ্খাকে ঘিরেই এই গল্প গড়ে উঠেছে। তার চ্যুইংগাম খেয়ে শতখানেক সচিনের কার্ড দরকার। আর রতনদার দোকানের মোহময় আলুরদমপাঁউরুটি সে খাবে। কিন্তু উপায়? লক্ষ্মীর ভাঁড় থেকে পার্থর শেখানো কায়দায় পয়সা বের করা। অনেক কষ্টে সে সফলও হয়। কিন্তু? এই কিন্তুর মধ্যেই গল্পের অন্তর্নিহিত পাঠ লুকিয়ে আছে। শেষ পর্যন্ত সে পেরে ওঠে না। কয়েন তিনটে আবার ফিরিয়ে দেয় সেই লক্ষমীর ভাঁড়েই। বিট্টুর এই না পারাটাই অনেক বড় প্রাপ্তি হয়ে ওঠে পাঠকের কাছে। আসলে সমস্ত রকম জীবনের হয়ে ওঠার মতো অসৎও একভাবে হয়ে ওঠা। আমাদের অনেক রকম চাহিদা আছে। সব তো সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না, কাজেই আমাদের বেঁকা পথ ধরতে হয়, তা অবৈধ হলেও। শিশুদের জগত থেকেই তা শুরু হয়ে যায়। কেউ তার মধ্যে ডুবে যায়, আবার কেউ তা থেকে বেরিয়ে আসতে সফল হয়। বিট্টু সেই লোভকে জয় করতে পেরেছে। পেরেছে আমাদের মতো বয়েসে বড়দেরকেও এক জোর ধাক্কা দিতে।

চিহ্ন গল্পগ্রন্থের প্রতিটি গল্প পড়লে আলাদা করে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এর চরিত্রগুলি। বিতান তার গল্পের প্রায় প্রতিটি চরিত্রকেই তুলে এনেছেন রাস্তায় চলতে-ফিরতে। বাস-ট্রেনচায়ের ঠেপাড়া বা আমাদের পরিচিত বাড়ির কোণ থেকে। বিতানের গল্পে সাজানো ড্রইংরুম নেই, লেট নাইট পার্টি নেই, বিলাসবহুল গাড়ি নেই, যথেচ্ছ যৌনতা নেইএই বৃত্তের বাইরেই বিতান তার চরিত্রদের খুঁজেছেন। আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিতানের গল্প বলার আশ্চর্য ক্ষমতা। প্রতিটি গল্পের সঙ্গেই গল্পকারের অসাধারণ treatment  যুক্ত হয়ে গেছে। আলাদা করে দুটো গল্পের কথা এখানে বলতেই হয়। একটি হারিয়ে যাওয়া আর অন্যটি চিহ্ন। দুটি গল্পের পরিসরই খুব সংক্ষিপ্ত। কিন্তু কী মানবিক এর ব্যখ্যান, কী আন্তরিক এর নির্মাণ। কী অপরিসীম মমতা দিয়ে গল্পকার গড়ে তুলেছেন কথাগুলো।

যে কোনও সরকারি মানবিক কাজ করতে গেলে মানুষকে ক্ষতি স্বীকার করতেই হয়। কাজেই উড়াল পুল গড়তে গেলে উচ্ছেদ হয়ে যেতে হয় বস্তি। তেমনই একটা উচ্ছেদ হয়ে যাওয়া বস্তির বাসিন্দা ফটিক ও লালি। যারা আমাদের মধ্যবিত্ত দৃষ্টিতে ছোটলোক। কিন্তু তাদেরও যে ভালোবাসা আছে, নির্ভরতা আছে, সংসারের আকাঙ্খা আছে, তার চেষ্টা আছেএসব কিছুই দারু বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরেছেন বিতান। চলমান ট্রেনকে কেন্দ্র করে এক সন্তানসম্ভাবা নারী ও তার পুরুষের মাঝে পাঠক হতবম্বের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। আর চিহ্নগল্পে নকাকার এক প্রশ্নই শেষপর্যন্ত খেটে-খাওয়া মিস্ত্রি সুভাষ, আর খেটে-খাওয়া গৃহশিক্ষক ছন্দাকে একই পদচিহ্নে মিলিয়ে দেয়। বুঝিয়ে দেয়, পৃথিবীর সমস্ত মেহনতি মানুষদের একটাই শ্রেণিপরিচয়। তা সে যতোই আপলিফট্‌মেন্ট অফ ক্লাসের স্বপ্ন দেখুক না কেন।

বিতানের গল্প পড়তে গিয়ে আরও একটি উপলব্ধি আমার হয়েছে। তা হল, গল্পকার রাজনৈতিক চেতনায় সমৃদ্ধ। মজার কথা হল, বিতান তার গল্পে কোথাও সরাসরি রাজনীতির প্রসঙ্গ আনেননি। কিন্ত চাকরিহীন চরিত্র, রাজনৈতিক পার্টি আশ্রিত মাস্তান, চাকরির মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ঝান্ডা ধরানো, অবৈধ তকমা দিয়ে লোকের বাসস্থান গুঁড়িয়ে দেওয়া, পার্টির জেন্টদের দাপটএই সবই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আমাদের অত্যন্ত পরিচিত। যা সেদিন ছিল, আজও আছে। গুণগতমান দারুভাবে অক্ষত। ভাঙা জ্যোৎস্না গল্পে যেন তা সম্পূর্ণভাবে উঠে এসেছে। কিন্তু আশার কথা লড়াইটা ব্যক্তিগত স্তরে শুরু হলেও সঙ্ঘবদ্ধতার ইঙ্গিত গল্পকার জোরালোভাবেই দিয়েছেন।               
সাতটা গল্পের মধ্যে কেবল অসম্পূর্ণগল্পটিকে ঘিরে কয়েকটি প্রশ্ন থেকে গেল। মনীষা ও বিকাশের সম্পর্কটা বেশ ঝাপসা, গল্পে মাসিমার কি খুব প্রয়োজন ছিল? আর হ্যাঁ, প্রেমে ধাক্কা খেলেই কি বেশ্যালয়ের ভালো নারীর কাছে পৌঁছতেই হবে?
আর একটা কথা, বিতানের সব গল্প পড়তে পড়তে মনে হয়, আর একটু আর একটু তো বলাই যেত। যেন স্বাদ মিটল না। আমার মনে হয়, বুদ্ধিদীপ্ত গল্পকার এটুকু space তার পাঠকের জন্য সচেতনভাবেই ছেড়ে রেখেছেন। যাতে করে গল্পপাঠের যাত্রাটা পাঠকেরও হয়ে উঠতে পারে।

শেষ কথায়, একজন পাঠক হিসেবে আমার মনে হয়েছে, বিতানের গল্প যেন এক দক্ষ শিল্পীর ধ্রুপদী যন্ত্র যা আলাপ, থেকে বিস্তার, বিস্তার থেকে ঝালা। কিন্তু তেহাইএ কখনও পৌঁছায় না। আবার ফিরে আসে উলটো পথে।
চিহ্ন পড়ুন। কে জানে, এ অনুভব আপনিও পেয়ে যেতে পারেন!  



সমালোচক জাকির হোসেন দিল্লি কলেজের (সান্ধ্য শাখা) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক।
(দিল্লি ইউনিভার্সিটি) 
   



সোমবার, ২ এপ্রিল, ২০১৮

তুমি যে পথে ঈশ্বর খুঁজেছ,
আমি সেই পথে তোমাকে
যেখানে নদী ও পথ একাকার হয়ে মেশে
আমি সেখানে তোমার প্রচ্ছদ এঁকে ফেলি

তুমি যে পথে গাছ গাছালি আর ছায়াকে শুইয়ে রাখো আমিও
একটুকরা হাসির জড়ুল সেলাই করি তাদের বল্কলে বল্কলে।


আমি নই, আমার ভিতর একটি ঈশ্বর ও প্রেমিক
প্রেম-অপ্রেমের সিন্দুক, খুলে নিতে চায়-
এক একটি কবিতার ঘূর্ণনে।

কান্নার ধ্বনিটি একটি রুগ্ন নারী ও শিশুর পোট্রেট-
অথবা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়া জলরং।
আমি তাদের একটু উষ্ণতার জন্য ভালবাসতে দেখি

তুমি যে পথে ঈশ্বর খুঁজো
আমি সেই পথে তোমাকে।
পথে পথে ঈশ্বর খুঁজতে খুঁজতে
ক্লান্ত হয়ে, যখন আমায় ভুলে যাও
আমার ঈশ্বর প্রতিবাদী হয়ে ওঠে।



অলঙ্করণ-সঞ্জীব






রবিবার, ১ এপ্রিল, ২০১৮



  ক বি তা
চোখ

আমার মতোই আমার ছেলের চোখ।
বাবা তুইও কী জন্মালি তবে-
বুকে নিয়ে অদ্ভুত নদী?

নদী তো বলে না নদীর কাহিনী
লিখে রাখে চোখ নদীর বিস্মিত- বিপন্ন পৃথিবী!

সবুজ কবর

ভুল বিশ্বাসে হেঁটে গেছি নদীর কিনারে
ওখানে বালু চিকচিকে হিরণ রোদ্দুরের চর
লু- হাওয়া ওখানে এখন;
সেই মাছরাঙাটি নেই যে আমার শৈশবে-
রঙিন পালকের সম্মোহন!

যা ছিলো কিছুই নেই আর তেমন।
কোথায় প্রোথিত আমার জন্মের শিকড়?
পৃথিবীর প্রগাঢ় নির্জনতা নিয়ে-
জেগে আছে কেবল একটি সবুজ কবর!




অলঙ্করণ-সঞ্জীব





অনুসন্ধান

    কবিতা সংকলন ২০১৫

    কবিতা সংকলন ২০১৫

    যোগাযোগ

    ফেরারিতে আপনার অপ্রকাশিত কবিতা, গল্প পাঠাতে ই-মেল করুন ferarifacebook@gmail.com এ। লেখা যে কোনো ইউনিকোড এ লিখে ওয়ার্ড ফাইলটি পাঠান। লেখা মনোনীত হলে প্রকাশিত হবে ৭-১০ দিনের মধ্যে।

    লিখেছেন

    বিভাস রায় চৌধুরী, বিকাশ সরকার, রেহান কৌশিক, অভিমন্যু মাহাত,ঋজুরেখ চক্রবর্তী, অনিন্দ্য রায়, অনুপম মুখোপাধ্যায়, অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবায়ুধ চট্টোপাধ্যায়, বিদিশা সরকার, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, ঈশিতা ভাদুড়ী, সুবীর বোস,দয়াময় পোদ্দার, প্রত্যুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, শৈলেন সাহ, প্রনব বসু রায়, মাহমুদ টোকন, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, কিরীটী সেনগুপ্ত, চন্দনকৃষ্ণ পাল,তাপসকিরণ রায়, দন্ত্যন ইসলাম, শর্মিষ্ঠা ঘোষ, সেলিম উদ্দিন মণ্ডল, সোমনাথ প্রধান,নবকুমার পোদ্দার,পিনাকী ঘোষ, দেবাশিষ মুখোপাধ্যায়, কিশোর ঘোষ,জুবিন ঘোষ, পলাশ দে,রঙ্গীত মিত্র, উল্কা, স্রোতস্বনী চট্টোপাধ্যায়, পবিত্র আচার্য্য, অবিন সেন, শান্তনু দে,শাঁউলি দে, অমিত ত্রিবেদী, শূদ্রক উপাধ্যায়, সৈকত ঘোষ, বাপ্পাদিত্য মুখোপাধ্যায়, মাহদী হাসান, সুমন্ত চট্টোপাধ্যায়,অনির্বাণ ভট্টাচার্য, আকাশ গঙ্গোপাধ্যায়,সুদীপ চট্টোপাধ্যায়, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় ও আরও অনেকে।

    ফেসবুক পাতা

    ফেরারি কথা

    ফেসবুক পত্রিকা দিয়ে ২০১৩ তে আমাদের যাত্রা শুরু। শ্রদ্ধেয় কবি প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক ও হাংরি জেনেরেশন এর অন্যতম শ্রী মলয় রায়চৌধুরি তাঁর অনলাইন বার্তায় পত্রিকার শুভ সূচনা করেন। তারপর ডিজি ম্যাগ,অবশেষে এই ব্লগজিন।২০১৫ কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে ফেরারির প্রথম মুদ্রিত কবিতা সংকলন। প্রতিষ্ঠিত লেখকদের ভিড়ে সম্ভাবনাময় লেখক লেখিকাদের তুলে ধরতে যেভাবে লিটিল ম্যাগাজিন কিম্বা বহুল প্রচলিত পত্রিকাগুলি হিমসিম খাচ্ছে তাতে বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি অনেকটাই আশা জুগিয়েছে ।মূলত নতুন লেখকদের একটা জায়গা দিতেই ফেরারির এই উদ্যোগ। তাদের উৎসাহ যোগাতে লিখবেন সাম্প্রতিক কালের প্রতিষ্ঠিত লেখক লেখিকাও। এভাবেই খুলে যাবে বাংলা সাহিত্য চর্চার এক নতুন দিগন্ত। প্রবীণ থেকে নবীনে বয়ে যাবে বাংলা সাহিত্যের ধারা। মননশীল পাঠকের সুচিন্তিত মতামত ও প্রতিষ্ঠিত লেখকের অনুপ্রেরণা নবীন লেখক লেখিকাকে সাহায্য করবে আগামী দিনের বাংলা সাহিত্যের ধারক ও বাহক হয়ে উঠতে।

    উপদেষ্টা মণ্ডলী - পিনাকী প্রসাদ চক্রবর্তী,
    অনুপম মুখোপাধ্যায়, অনিন্দ রায়, বিক্রম অধিকারী।

    অলঙ্করণ- মৌমিতা ভট্টাচার্য, নচিকেতা মাহাত, চিন্ময় মুখোপাধ্যায়, শ্রীমহাদেব, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সম্পাদক- সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়



    Back to Top